ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে যেকোনো সরকারই যে কোনো সময় ব্যর্থ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রেজা পাহলভি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তার দেশ তাকে নেতৃত্ব হিসেবে গ্রহণ করবে কি না। যদি করে, তাহলে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শেষ ইরানি শাহের পুত্র রেজা পাহলভি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের বিরোধী আন্দোলনের একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেও দেশটির বিরোধী শক্তি এখনো বিভক্ত এবং ভেতরে সংগঠিত উপস্থিতি দুর্বল বলে মনে করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। চার বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধের শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সমঝোতায় প্রস্তুত, কিন্তু মূল বাধা হচ্ছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে রাজি করাতে হবে।’
এছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে ঘিরে বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিয়ে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ সমালোচনাও উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দলের আইনপ্রণেতাদের ‘অনুগত’ হওয়া উচিত। জেপি মরগানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমনের সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার কথায় তিনি গুরুত্ব দেন না।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, বৃহস্পতিবার তিনি দেশটির বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করবেন। এটি হবে তাদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। মাচাদো সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি খুব ভালো মানুষ। আমরা প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলব।’
সাক্ষাৎকারজুড়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ থাকলেও তিনি দাবি করেন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সূচকগুলো ইতিবাচক। আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি এই বার্তাই বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানান।