×
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৮-২২
  • ৮০ বার পঠিত
সরকার কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে ইউরিয়া সার দেয়। দেশের মোট চাহিদার বিপরীতে বেশির ভাগ সার আমদানি করতে হয়। গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পৌনে আট লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি সার আমদানি করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। কিন্তু এই আমদানির বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকির অর্থ ছাড় করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না।

আর এই অর্থ না পেলে সরকারি ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এলএটিআর ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে পারবে না সংস্থাটি। এতে ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বিসিআইসি।
এসব বিষয় জানিয়ে সম্প্রতি অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চিঠিতে বিসিআইসি বলেছে, প্রতি অর্থবছরে সরকার তথা কৃষি মন্ত্রণালয়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিসিআইসি ইউরিয়া সার নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন করে। অবশিষ্ট পরিমাণ সার ‘কাফকো’ থেকে কেনে ও সরকারিভাবে (জিটুজি) বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২১) সংস্থাটি প্রায় সাত লাখ ৭৯ হাজার ১৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করে। এর বিপরীতে ‘ট্রেড গ্যাপ’ বাবদ বিসিআইসির দাবি করা অর্থের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিসিআইসির মোট দাবি করা অর্থের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল মৌখিকভাবে কয়েকটি কারণ দেখিয়ে প্রায় চার কোটি ৩৪ লাখ টাকা কেটে নেয়। এরপর দাবি করা অবশিষ্ট তিন হাজার ৭২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে চলতি বছরের ৫ জুন অর্থ বিভাগ এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ছাড় করে। সেই হিসাবে বর্তমানে সংস্থার প্রাপ্য বা দাবি করা অর্থের পরিমাণ হচ্ছে দুই হাজার ২৭৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংকের সুদ বাবদ চার কোটি ৩৪ লাখ টাকা যুক্ত হয়েছে। এতে মোট দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৭৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে জানা যায়, নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া সার আমদানির লক্ষ্যে প্রতিবছরই বিসিআইসি বরাবর অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুকূলে ‘কাউন্টার গ্যারান্টি’ ইস্যু করা হয়। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো ছয় মাস মেয়াদে এলএটিআর ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে সারের মূল্য পরিশোধ করে থাকে। বর্তমানে সুদসহ বিসিআইসির মোট এলএটিআর দায় রয়েছে সাত হাজার ৯৯৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে বিসিআইসি বলেছে, বর্তমানে ঋণপত্র (এলসি) স্থাপনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এলএটিআর ঋণের ওপর ৯ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করেছে। সে হিসাবে সংস্থার দাবি করা দুই হাজার ২৭৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বিপরীতে দৈনিক সুদ ৫৬ লাখ টাকা এবং মাসিক সুদ ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা যুক্ত হয়ে ভর্তুকি খাতে প্রতিনিয়ত সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থ বিভাগের অর্থ ছাড়ে যত দেরি হবে, ভর্তুকির পরিমাণও সে অনুপাতে বাড়তে থাকবে।

অন্যদিকে প্রতিটি এলএটিআর ঋণ নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধ করা না হলে তা শ্রেণীকৃত হয়ে যাবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে ও এলএটিআর সীমা অতিক্রম করলে নতুন করে এলসি স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো অপারগতা প্রকাশ করবে। সে ক্ষেত্রে সার আমদানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া বিসিআইসি ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

অর্থ ছাড় ও চিঠির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিসিআইসির চিঠিতে উল্লেখ করা বিষয়গুলো দেখে হিসাব-নিকাশ সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat