×
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৬-০২
  • ২৮ বার পঠিত
হাওড়, নদী, পাহাড়, সমতল ভূমির সমন্বয়ে হবিগঞ্জ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সম্পদে সমৃদ্ধ একটি জেলা। সুপ্রাচীনকাল থেকেই কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ আর চা-শিল্পের সমন্বয়ে এ জনপদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুবাতাস বিরাজমান ছিল। সিপাহশালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহ.) ও শাহ সুলেমান সৈয়দ ফতেহ গাজীর (রহ.) পদধূলিতে ধন্য এ মাটির উর্বরতা যেন কৃষককুলের কাছে এক ব্যতিক্রমী বিস্ময়। গোলাভরা ধান আর মাছে ভরা হাওড়-নদী নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রাণের সঞ্জীবনী শক্তি ছিল আকাশছোঁয়া। 


যোগাযোগের অব্যবস্থা থাকলেও কিষাণ কিষাণীর মনে আনন্দের সীমা ছিল না। শ্রমজীবী মানুষ হাওড় বাঁওড়ে খেটে, আর রঘুনন্দন পাহাড়ের প্রকৃতির কল্যাণকে পূঁজি করে জীবন জীবিকাকে চালিয়ে নিতো। সময় বদলেছে, নৌকা পথে এখন যন্ত্রযান চলে, দিনের পথ অতিক্রম করতে এখন ঘন্টা লাগে, লুঙ্গি পরা শ্রমিক এখন প্যান্ট পরে, কুপি বাতির ঘরে এখন ঝলমলে আলো, তবু সেদিনের শান্তির খোঁজ আর মেলে না।

আশির দশকে সায়হাম পরিবারের প্রতিষ্ঠিত সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এ অঞ্চলের সর্ব প্রথম অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভারি শিল্প। একে অনুসরণ করে একই পরিবার চালু করে বস্ত্রশিল্পের দ্বিতীয় প্রকল্প হামিদা বস্ত্র শিল্প লিমিটেড। সায়হাম পরিবারের শিল্পায়নের উদ্যোগে বদলে যেতে থাকে গ্রামীণ দৃশ্যপট। ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যোক্তা পরিবারটির রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস। তাই হবিগঞ্জের প্রবেশদ্বার মাধবপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী আর ভক্ত অনুসারী। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের বিষয়াদি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শুভাকাঙ্ক্ষী, অনুসারী আর এ অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে সায়হাম গোষ্ঠীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

সময়ের ধারাবাহিকতায় সায়হাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রবৃদ্ধি ঘটতে থাকে জ্যামিতিক হারে, সায়হাম কটন, সায়হাম স্পিনিং এর মতো বড় বড় মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে শিল্পায়নের সমৃদ্ধি ঘটতে থাকে। স্বল্প শিক্ষিত, শিক্ষাহীন, ক্ষেত-খামারে কাজ করা ভূমিহীন, আর রঘুনন্দন পাহাড়কে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা শ্রমজীবী মানুষের কর্ম সংস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠে সায়হাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। রঘুনন্দন কে ঘিরে গড়ে উঠা শ্রমজীবীদের দুর্বৃত্তায়নও কমতে থাকে বিস্ময়করভাবে। রাজনৈতিক ও আদর্শগত মতানৈক্যের কারণে নানারকম আলোচনা সমালোচনা থাকলেও, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই সায়হামকে কেন্দ্র করেই মাধবপুর উপজেলার আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে যায়।

নব্বই দশক অবধি শিল্পায়নের ফলে সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো সেভাবে অনূভুত না হলেও, একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ক্রমান্বয়ে তা দানবীয় রুপ ধারন করতে শুরু করে। ঢাকা সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন, কম মূল্যের জমি আর প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতার কারণে সায়হামকে অনুসরণ করে দেশের সব বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠে। স্কয়ার, যমুনা, আকিজ, প্রাণ গ্রুপ,আরএকে এর মতো বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলোর পাশাপাশি আরও শত শত শিল্প কারখানায় মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার গণমানুষের জীবনধারা যেমন পাল্টে যায়, বিপরীতে সুশীলতল বায়ু বাতাসের গ্রামীণ জনপদ হয়ে উঠে অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে পরিবেশ বিধ্বংসী মানবিক বিপর্যয়ের এক নিষ্ঠুরতম উৎসস্থল। 

ভৌগোলিকভাবে ভারত সীমান্তের কূল ঘেঁষে রঘুনন্দন, কালেঙ্গার মতো পাহাড় অরণ্যের ভাটিভূমি হবিগঞ্জ জেলা। বর্ষাকালে প্লাবন হলেও খোয়াই, সোনাই, কুশিয়ারা, সুতাং নদীর পাশাপাশি শত শত পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা ঢলের পানি ছিলো যুগ যুগান্তরের আর্শীবাদ। ঢলের পানির পলিমাটিতে কৃত্রিম আর জৈব সার ছাড়াই কৃষকের জমিতে সোনা ফলতো। খাল, বিল, নদী, নালা মৎস্য সম্পদে ভরপুর হয়ে যেত। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশে বিদেশে রপ্তানি হতো মিঠা পানির সুস্বাদু মাছ। আমিষ আর আয়রনের সংকট ছিল অলিক কল্পনা। দুঃখজনক হলেও সত্যি, অপরিকল্পিত আগ্রাসী শিল্পায়ন জনজীবনে স্বস্তির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সংকট নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জে তৈরি হচ্ছে নানামুখী পরিবেশগত, সংবেদনশীল সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয়। 

পাহাড় থেকে নেমে আসা ছড়া, খাল, নদীর তীর ঘেঁষে লোকালয় আর কৃষিজমি নানা ছলচাতুরীতে বাগে এনে, লোভী শিল্পপতিরা দেশমাতৃকার উন্নয়নের নামে হাজার হাজার একর জমিতে গড়ে তুলছেন অপরিকল্পিত শিল্পায়ন। প্রাকৃতিক জলাধার, খাল, নদীই যেন হয়ে উঠছে শিল্প কারখানার দূষিত বর্জ্য নিষ্কাশনের একমাত্র উপায়। ফলশ্রুতিতে দূষিত কেমিক্যাল মিশ্রিত কালো পানিতে ধ্বংস হচ্ছে মাছের আধার, ফসলি জমি হয়ে পড়ছে উৎপাদনের অনুপযোগী। গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি জমি উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দিশেহারা কৃষক উপায়ান্তর না দেখে জোতদার শিল্পপতিদের নিয়োজিত মধ্য স্বত্বভোগী দালালের মাধ্যমে সোনালী অর্থনীতির জীবন জীবিকার আজন্ম লালিত সম্পদকে তুলে দেয় আগ্রাসী মহাজনদের হাতে।

জমি কেনা-বেচা, দালালি, মহাজনীর আড়ালে টাউট বাটপারদের সমন্বয়ে জোতদার শিল্পপতিদের ছত্রছায়ায় গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ভূমিখেকোর দল। নিরীহ, গরীব, অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত, প্রবাসী আর মেহনতি মানুষদের জায়গা জমির কাগজ পত্রে জাল-জালিয়াতি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কখনো নামমাত্র মূল্যে কখনো বা বিনামূল্যে হাতিয়ে নেয় সারাজীবনের কষ্টার্জিত অমূল্য সম্পদ। প্রবল পরাক্রমশালীদের রক্তচক্ষুর ভয়ে অসহায় মানুষ নীরবে চোখের জল ফেললেও জীবনের ভয়ে আইন আদালতের শরণাপন্ন না হয়ে শেষ বিচারের মহানায়ক পরম করুণাময়ের কাছে আত্নসমর্পণ করেই ইহজাগতিক সান্ত্বনা খোঁজে। 

আগ্রাসী শিল্পায়নে জমির মূল্য বেড়েছে। ব্যতিক্রম বাদে অনেক কৃষক পরিবার ভূমিহীন হয়ে এককালীন অর্থের বিনিময়ে চিরস্থায়ী বেকারত্বকে বেঁচে নিতে বাধ্য হচ্ছে। যথাযথ জ্ঞানের অভাবে ভোগবিলাসে অর্থের যথেচ্ছ ব্যবহারে ঘরে ঘরে তরুণ যুবকেরা জীবন ধ্বংসকারী নেশার কোলে ঢলে পড়ছে, তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদি ভয়াবহ সামাজিক সংকট। মাধবপুর থেকে নবীগঞ্জ অবধি ছয়টি উপজেলায় বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন লক্ষ লক্ষ বহিরাগত মানুষের বসবাস। কোন কোন এলাকায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষের সংখ্যা স্থানীয়দের চেয়েও বেশি। তাই ভেঙে পড়ছে যুগ যুগান্তরের গ্রামীণ রীতি-নীতি, সংহতি আর সমন্বয়ের সামাজিক সংস্কৃতি, তৈরি হচ্ছে বহুবিধ প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে অবকাঠামো, শিক্ষা স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাসহ সকল খাতেই আনুপাতিক হারে উন্নয়ন প্রত্যাশিত হলেও এর কোন দৃশ্যমান আলামত আজও লক্ষ্যণীয় নয়। জগদীশপুর থেকে নোয়াপাড়া হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ, রতনপুর-ফানদাউকসহ ছয়টি উপজেলার অনেকগুলো আন্ত উপজেলা সড়কের দৃশ্য দেখলে মনে হয় সরকার আর প্রশাসন যেন চিরনিদ্রায় শায়িত। এসব সড়কে চলাচলকারী গর্ভবতী মহিলাদের আর্ত চিৎকারে মনে হয় আল্লাহর আরশও কেঁপে ওঠে। গ্রামগঞ্জের প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশকে বিপন্ন করে হাজার হাজার কোটি টাকা উপার্জনকারীদের কেন সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় আনা যায় না, সেটি মোটেও বোধগম্য নয়।

পরিবেশ, প্রতিবেশকে বিপন্ন করে কোন দেশই উন্নত হতে পারেনি। শিল্পায়ন উন্নয়নের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলেও ভৌগোলিক, সামাজিক, প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়, বিপরীতে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়, যার সুস্পষ্ট আলামত ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। মার কোম্পানি লিমিটেড নামে এক তথাকথিত শিল্পের বিষাক্ত বর্জ্যে গত কয়েক বছরে তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় চরম বিপর্যয় নেমে আসে। রতনপুর-ফান্দাউক রাস্তার কোল ঘেষে গড়ে উঠা গ্লোরী নামে এক কোম্পানির বিষাক্ত ক্যামিকেলের বায়ুদূষণে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করা জনমানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। 

উজানের পানি প্রবাহের পথ রুদ্ধ করে গড়ে উঠেছে শিল্প। অসীম ক্ষমতাধর মালিকদের শিল্প কারখানার দূষিত কেমিক্যাল বিনা বাধায় ছেড়ে দেওয়া হয় খালে বিলে। মাছ, হাস, মুরগি, গরু, ছাগল মরে সয়লাব হয়ে যায়। ঘরে ঘরে চর্মরোগসহ নানা রকম পানি ও বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট জটিল রোগ-শোকে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এসব ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের আহাজারি চললেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। কয়েক বছর আগে শাহপুর, এক্তিয়ারপুরসহ কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ নানা জায়গায় আবেদন করে কোন ফল না পেয়ে একবার নিজেরাই মার কোম্পানির গেটে থালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল।

সারাজীবন শুনেছি রাজনীতিবিদ আর জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। অতিষ্ঠ জনতা যখন মা'র কোম্পানিতে থালা ঝুলিয়েছিল, রাজপথ অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল দুঃখজনক ভাবে ছাতিয়াইনের প্রয়াত চেয়ারম্যান খাইরুল হোসেইন মনু ছাড়া অত্র অঞ্চলের কোন রাজনীতিবিদ সাধারণ জনতার পাশে দাঁড়ায়নি। বিপরীতে মামলার ঝুলি মাথায় নিয়ে বিপদগ্রস্ত সাধারণ জনতাকেই পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল। এ অঞ্চলে বঙ্গবন্ধু আর জিয়ার নামে রাজপথ কাঁপিয়ে স্লোগান দেওয়ার মতো লোকের অভাব নেই। কার চেয়ে কে বড় নেতা, এই প্রতিযোগীতারও শেষ নেই। অথচ বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, এমন মানুষ খোঁজে পাওয়ার ভার। 

মানবিক বিপর্যয়ে অতিষ্ঠ জনতা যখন পালিয়ে বেড়ায়, তথাকথিত রাজনীতিবিদরা তখন আগ্রাসী শিল্পপতিদের সাথে মধুচন্দ্রিমায় যায়। ওরা ভুলে যায়, বঙ্গবন্ধু মুজিব বাইশ পরিবারের সঙ্গে না দাঁড়িয়ে, সারাজীবন আমজনতার সাথে থেকেই বঙ্গবন্ধু হয়েছেন। বিধাতা সহায় ছিলো, বাকপটু নেতারা জনতার পাশে না দাঁড়ালেও বেলা আর বাপা'র মতো পরিবেশবাদীরা দাঁড়িয়েছিল। তাই জেল জুলুমের হাত থাকে আপাতঃ অবসান হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের আইনী সংগ্রামে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে শাহপুরের পারমাণবিক মারণাস্ত্র মা'র কোম্পানি তালাবদ্ধ হলেও ছাতিয়াইনের গ্লোরী এখনো নির্বিঘ্নে বায়ু-বাতাস,আর পানিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশু আর বয়োবৃদ্ধদের জীবনকে মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষ শিল্পায়ন বিরোধী নয়, তবে সেটি যদি পরিকল্পিত পরিবেশবান্ধব না হয়, অপ্রতিরোধ্য মানবিক বিপর্যয়ের পথেই এগিয়ে যাবে সমাজ। অর্থ বিত্তে সমৃদ্ধ হয়ে শিল্পপতি আর চাটাপাটার দল ভোগ বিলাসেই জীবন কাটাবে, আর আমজনতা ধুঁকে ধুঁকেই মরবে।

রাজনীতিতে আদর্শ মানুষের কথা উঠলেই মাধবপুরের লাখ লাখ জনতা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য মরহুম মাওলানা আসাদ আলী মহোদয়কে শ্রদ্ধাভ্ররে স্মরণ করেন। তারই সুযোগ্য সন্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী সরকারের দুটো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। বোধ করি জাতীয় দায়িত্ব পালনে তিনি এতোটাই ব্যতিব্যস্ত, তারই নির্বাচনী এলাকায় অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে ভয়াবহ মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতে কৌশলী উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগটুকুও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।

অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপি, কৈশোর থেকেই যাকে আমি ভ্রাতৃতুল্য অগ্রজ হিসেবে জানি, তিনবার লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। হারানো সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধার করে শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়েছেন। হবিগঞ্জের মানুষ তাকে মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। চল্লিশ বছরের রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জের সবচেয়ে শক্তি শালী জননেতায় পরিণত হয়েছেন। সার্বক্ষণিক এই রাজনীতিক জনতার মাঝেই থাকেন। জানিনা কোন যাদু মন্ত্রের কারণে বা কোন অদৃশ্য শক্তির ভয়ে তিনিও অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে মানবিক বিপর্যয় রোধে করণীয় নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন! 

বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী, প্রয়াত জাতীয় নেতা মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজীর সন্তান শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী, নবীগঞ্জ-বাহুবলের সংসদ সদস্য। চাইলেই যে কোনো দাবি নিয়ে প্রয়োজনে দেশের প্রধান নির্বাহীর শরণাপন্ন হতে পারেন। আমজনতার দাবী পরিকল্পিত,পরিবেশ সম্মত, শিল্পায়ন নিয়ে তার কোনো দৃশ্যমান ভূমিকাও আজ অবধি চোখে পড়েনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিয়ম, অনাচারের প্রতিবাদ করে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। আগ্রাসী অপরিকল্পিত শিল্পায়নে তাঁরই নিজ এলাকার আমজনতা যখন সমূহ মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয়ে পথে এগিয়ে যাচ্ছে, কোন অজানা ভালোবাসার কারণে তার লাইভ সেখানে সচল হয় না, জনমনে এটিও প্রশ্নবোধক হয়ে আছে।

নিজ চোখে দেখেছি, ইতিহাসে পড়েছি জনতার দাবি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে, জেল-জুলম, হুলিয়ার বিনিময়ে মানুষ জননেতা হয়। বঙ্গবন্ধু তো সেই অষ্টম শ্রেণি থেকেই দাবি আদায়ের আন্দোলন সংগ্রাম করেই বিশ্বের অবিসংবাদিত জাতীয়তাবাদী নেতায় পরিণত হয়েছেন। তারই অনুসারী মত-পথের ধারক আজকের প্রজন্ম কোনো অজ্ঞাত কারণে আগ্রাসী শিল্পায়নের ফলে জনজীবনে অবশ্যম্ভাবী মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে এগিয়ে আসে না, এর উত্তর হয়তো জনতাকে একদিন দিতেই হবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের আগেই, জনতার নেতা হয়ে, জনতার দাবি নিয়ে হবিগঞ্জ বাঁচানোর আন্দোলনে শামিল হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত নয় কি?

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat