×
সদ্য প্রাপ্ত:
১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, মার্কিন কূটনীতিকদের বললেন প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে রিকশা ও ভ্যানচালকদের মতবিনিময় ২২ জানুয়ারি প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ শুরু মুসলিম ব্রাদারহুডের ৩ শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী মাঠে টেকা নিয়ে ক্রমেই শঙ্কা বাড়ছে জাপা প্রার্থীদের ৮০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার প্রকল্প বাতিল, ধারণকৃত ১৪৬৪০ ভিডিওর কী হবে? যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান আগামী নির্বাচনে কেউ মেকানিজমের চিন্তা করলে তাদের পালাতে হবে মোবাইল অ্যাপে র‌্যাপিড পাস রিচার্জ সুবিধা চালু মোবাইল অ্যাপে র‌্যাপিড পাস রিচার্জ সুবিধা চালু
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০১-১০
  • ১৬ বার পঠিত

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বিবিসিকে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের একটি ‘বাস্তব হুমকি’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে তাদের ‘সাম্রাজ্যের’ অংশ হিসেবে দেখছে। খবর বিবিসি’র।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়াকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বকে শাসন’ করা থেকে ‘বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন’ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা ‘নাৎসি ব্রিগেডের’ মতো আচরণ করছে। অপরাধ ও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে ট্রাম্প আইসিই-এর কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন।

বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়টি ‘ভালো শোনাচ্ছে’।

ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে ‘সাবধান থাকতে’ বলেছেন, যা পেত্রো কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরপর ট্রাম্প বলেন, তিনি শিগগিরই হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, পেত্রোর সঙ্গে তার কথোপকথন ছিল ‘বিরাট সম্মান’। কলম্বিয়ার এক কর্মকর্তা তখন বলেন, আলোচনায় ‘উভয় পক্ষের বক্তব্যে’ ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

তবে বৃহস্পতিবার পেত্রোর বক্তব্যে বোঝা যায় সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ফোনালাপটি প্রায় এক ঘণ্টার মতো স্থায়ী হয়েছিল, ‘যার বেশিরভাগ সময় আমি কথা বলেছি’ এবং আলোচনার বিষয়ের মধ্যে ছিল ‘কলম্বিয়ায় মাদক পাচার’, ভেনেজুয়েলা নিয়ে কলম্বিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ‘লাতিন আমেরিকা জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যা ঘটছে’।

পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসন দমন কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন, আইসিই এজেন্টদের বিরুদ্ধে ‘নাৎসি ব্রিগেডের’ মতো আচরণের অভিযোগ তোলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ ও পাচারের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করছেন এবং ব্যাপক অভিযানকে ন্যায্যতা দিতে এটি ব্যবহার করেছেন। তিনি কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে দেশজুড়ে শহরগুলোতে আইসিই এজেন্ট পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। সংস্থাটি অভিবাসন আইন প্রয়োগ করে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তদন্ত চালায়। এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের কাজও করে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা ছয় লাখ পাঁচ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করেছে। এছাড়া তারা বলেছে, ১৯ লাখ অভিবাসী ‘স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছে’, যা ছিল গ্রেপ্তার বা আটক এড়াতে দেশ ছাড়ার জন্য চালানো আক্রমণাত্মক জনসচেতনতামূলক প্রচারণার ফল।

সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিংহাউসের অভিবাসন প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আইসিই-এর হেফাজতে ছিল প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ।

এ সপ্তাহে মিনিয়াপোলিস শহরে এক মার্কিন অভিবাসন এজেন্ট ৩৭ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে, যা রাতারাতি বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

ফেডারেল কর্মকর্তারা বলেন, ওই নারী, রেনে নিকোল গুড, তার গাড়ি দিয়ে অভিবাসন এজেন্টদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শহরের মেয়র, ডেমোক্র্যাট জ্যাকব ফ্রে বলেন, যে এজেন্ট তাকে গুলি করেছে সে বেপরোয়া আচরণ করেছে এবং তিনি এজেন্টদের শহর ছাড়ার দাবি জানান।

পেত্রো বলেন, আইসিই ‘এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা শুধু রাস্তায় লাতিন আমেরিকানদের তাড়া করে না, যা আমাদের জন্য অপমানজনক, বরং তারা মার্কিন নাগরিকদেরও হত্যা করছে’।

তিনি আরও বলেন, যদি এটি চলতে থাকে, ‘তাহলে বিশ্বকে শাসন করার একটি সাম্রাজ্যবাদী স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো সাম্রাজ্য গড়ে ওঠেনি।

পেত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘দশকের পর দশক’ ধরে অন্যান্য সরকারকে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায়, আইন উপেক্ষা করে ‘সাম্রাজ্যের’ অংশ হিসেবে দেখেছে।

এ দুই নেতা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থানে আছেন, প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য ও শুল্কের হুমকি বিনিময় করেছেন।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর পেত্রো অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন ‘তেল ও কয়লা’ নিয়ে যুদ্ধ চাচ্ছে।

তিনি যোগ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে না যেত—যেখানে দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণে সম্মত হয়েছিল— ‘তাহলে কোনো যুদ্ধ হতো না, বিশ্ব ও দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক হতো অনেক বেশি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat