×
  • প্রকাশিত : ২০২৩-০১-২৩
  • ১৭ বার পঠিত
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় মেয়াদের শেষ পাঁচ মাসে তথ্যপ্রমাণের অভাবে ৪১০টি দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান সমাপ্ত ঘোষণা করে সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেইসঙ্গে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে ৬৩ মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরিসমাপ্তি ঘোষিত ও চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া দুদকের সেই ৪৭৩ নথি খতিয়ে দেখবেন হাইকোর্ট।
এসব নথি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে দাখিলের জন্য দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সুয়োমটো রুলের শুনানিকালে গতকাল রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি।

আদেশের পর দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে যে ৪১০টি অনুসন্ধানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতিটির ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছি। কেন অনুসন্ধান পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে, তা তুলে ধরেছি। তখন আদালত এই ৪০৮টিসহ মোট ৪৭৩টি নথি দেখতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি এই নথিগুলো দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ওইদিন অনুসন্ধান করে পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া মোট ৪৭৩টি নথি দাখিল করব।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় দুদক ২০২০ থেকে ২০২১ সালে অনুসন্ধান পর্যায়ে ৪১০টি অভিযোগের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে এবং ৬৩টি মামলায় তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছে, হাইকোর্ট সেই নথিগুলো দাখিল করতে বলেছেন। পত্রিকায় যে অভিযোগ এসেছে, দুদক অনুসন্ধান বাণিজ্য করেছে, সেটা জনসমক্ষে এসেছে। এই অভিযোগের একটা সুরাহা হওয়া দরকার। এজন্য হাইকোর্ট অনুসন্ধানের পরিসমাপ্তি ঘটানো এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া মোট ৪৭৩ নথি দুদককে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে ফের শুনানি হবে।

২০২১ সালের ১৪ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘দুদকে অনুসন্ধান বাণিজ্য’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তাদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ ৫ মাসে তিনি ২ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন। দায়মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং ভারতে অর্থ পাচারের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। এ ছাড়া বহুল আলোচিত কাস্টমস কমিশনার নূরুল ইসলাম, সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী শুধেন্দু গোস্বামী, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড ও তৎকালীন পরিচালক এবং চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (তিতাসের সাবেক এমডি) নওশাদুল ইসলাম, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নূরুল হুদা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. কফিলউদ্দিন, প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এলজিইডির প্রকল্প, দুদক উপপরিচালক আব্দুছ ছাত্তার সরকার, জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল কবীর ভূঁইয়া, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খান, রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী ছাইদুর রহমান, একই প্রতিষ্ঠানের মো. সিরাজুল ইসলাম, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান, ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম, সাউথ-ইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ, ডি বিল্ডার্স অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেডের মালিক মো. সরোয়ার খালেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. বেলাল হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার, কাস্টমস কমিশনার (রাজস্ব) ড. মো. সহিদুল ইসলাম, উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. শফিউল আলম চৌধুরী, বিডিবিএলের এমডি মঞ্জুর আহমেদ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, গোয়াইনঘাটের সাব-রেজিস্ট্রার স্বপ্না বেগম, স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ক্যাশিয়ার মো. দেলোয়ার হোসেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, গণপূর্তের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা একেএম মজিবুর রহমান, যুগ্ম সচিব মো. আবুল হাসনাত হুমায়ুন কবীর, পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া, পুলিশ ইন্সপেক্টর সাইদুর রহমান, সিটি ব্যাংকের ডিএমডি মো. ওয়াদুদ, আশুলিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার গাজী মো. আবদুল করিম, চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড কিপার বাবু ভজন বৈদ্য, বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (নাম নেই), বিআরটিএ, ঢাকার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি) মো. শামসুল কবির, একই অফিসের মোটরযান পরিদর্শক মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। এসব অভিযোগ ‘পরিসমাপ্তি’র চিঠির অধিকাংশই স্বাক্ষর করেন দুদক মহাপরিচালক (বিশেষ অনুঃ-তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ইকবাল মাহমুদ দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। ২০২১ সালের ১০ মার্চ তিনি অবসরে যান।

প্রকাশিত এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্টের উপরোক্ত বেঞ্চ ২০২১ সালের ১৬ মার্চ দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ শেষ পাঁচ মাসে কতজনকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দিয়েছেন, তার তালিকা চান হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবেদককে এ-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।

ওই আদেশ অনুযায়ী গতকাল দুদক একটি প্রতিবেদন দাখিল করে হাইকোর্টে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেষ পাঁচ মাসে ৪ হাজার ৪৮১টি অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন ছিল। এই সময়ে কমিশন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ১৫৪টি অভিযোগের বিপরীতে মামলা দায়েরের এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে ৪০৮টি অভিযোগ পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দুটি অভিযোগ কমিশন অন্যভাবে নিষ্পত্তি করে। এ ছাড়া একই সময়ে ১ হাজার ৫৭৮টি মামলা তদন্তাধীন ছিল, তার মধ্যে ৫৭টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ১৬৫টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ৬টি মামলা অন্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। এসবের বিস্তারিত বিবরণী তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। আদালত প্রতিবেদন দেখে পরিসমাপ্তি ঘোষণা, অন্যভাবে নিষ্পত্তি করা এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া মোট ৪৭৩টি নথি দাখিলের নির্দেশ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat