×
  • প্রকাশিত : ২০২২-১১-২৪
  • ২৯ বার পঠিত
‘আমার নিজের আনন্দের জন্য আমি ওকে শাস্তি দিইনি। ওর জন্যই এটা দরকার ছিল’—সান্তোসের বোর্ড সভায় নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন কোচ দরিভাল জুনিয়র।

ঘটনাটা ২০১০ সেপ্টেম্বরের। যাঁকে শাস্তি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা দিতে কোচ দরিভালকে সান্তোসের বোর্ড সভায় হাজির হতে হয়েছিল, সেই ছেলেটার নাম নেইমার।

শাস্তির কারণ, আতলেতিকো গুইয়ানিয়েন্সের বিপক্ষে একটা ম্যাচে পেনাল্টি নিতে না দেওয়ায় নেইমার কোচ দরিভালের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিলেন। ম্যাচে হাতাহাতি হয়েছিল প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গেও। সেই ‘খারাপ আচরণের’ কিছুটা টেলিভিশনেই দেখেছিলেন দর্শক। তবে সে সময় ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম লিখেছিল, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমেও নাকি দরিভালকে যা-তা ভাষায় গালমন্দ করেছিলেন নেইমার। গুইয়ানিয়েন্সের কোচ রেনে সিমোস ম্যাচটা শেষে সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘আমি এত বছর ধরে ব্রাজিলে কোচিং করাই, কোনো ছেলেকে এতটা অসদাচরণ করতে দেখিনি। ওর (নেইমার) খেলোয়াড়ি শিক্ষা বলতে গেলে নেই-ই। কারও উচিত ছেলেটাকে কিছুটা শিষ্টাচার শেখানো, নইলে দেখা যাবে ব্রাজিল ফুটবলে একটা দানব তৈরি হয়েছে।’ ওই ম্যাচের পরেই নেইমারকে পরের ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন দরিভাল, তাঁর মাসিক বেতনের এক-তৃতীয়াংশ জরিমানাও করেন।

এরপর সেই বোর্ড সভা এবং যে সভার ২৪ ঘণ্টা পর, ২১ সেপ্টেম্বর দেখা গেল দরিভাল বাক্স-পেটরা গুছিয়ে সান্তোস থেকে বিদায় নিচ্ছেন। ১৮ বছর বয়সী এক উঠতি ফুটবলারের সঙ্গে কোচের দ্বন্দ্বে সান্তোস বোর্ড পক্ষ নিল সেই ফুটবলারের। চাকরি হারালেন ৯ মাসের মধ্যে সান্তোসকে ব্রাজিলিয়ান ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম বড় দুটি ট্রফি ও শতকরা প্রায় ৬৫ ভাগ ম্যাচ জেতানো কোচ। বার্তাটা ছিল পরিষ্কার—নেইমার যে কারও চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সেই ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে এই ৩০ পর্যন্ত—নেইমারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের গল্প আসলে প্রায় একই আছে। জাতীয় দল ব্রাজিল হোক কিংবা ক্লাব ফুটবল, তিনি প্রায় সব সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটা ম্যাচে ফাউল আদায় করতে ডাইভ দেওয়ার পর স্কটিশ সমর্থকদের দুয়ো শুনেছিলেন নেইমার। সেটা নিয়ে স্কটিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে রীতিমতো লেগে গিয়েছিল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের। ২১ বছর বয়সে তাঁকে কিনতে দলবদলের বাজারে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বার্সেলোনার মহাযুদ্ধ, শেষ পর্যন্ত নানা কৌশল (অনেকে বলেন ‘অনিয়ম’) করে বার্সেলোনার জয়—এখানেও তিনি আলাদা। গত কয়েক দশকের মধ্যে আর কোনো ফুটবলারের দলবদল নিয়ে কি এমন বছরের পর বছর ধরে মামলা চলেছে! আবার সেই নেইমারই বার্সেলোনায় মেসির ছায়াতলে থাকতে চাননি বলে চার বছর পর দলবদলের ইতিহাসে যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে পাড়ি জমিয়েছেন পিএসজিতে। এর চেয়েও বিস্ময়কর লেগেছে, যখন খবর এল, এভাবে চলে যাওয়ার পরও তাঁকে ফেরানোর জন্য বার্সেলোনা নাকি বেশ চেষ্টাচরিত্র করছে! সবকিছুর কারণ তো একটাই—নেইমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat