×
  • প্রকাশিত : ২০২২-১১-২৪
  • ২০ বার পঠিত
জার্মান ডিফেন্ডার নিকো শ্লোটারবেককে ফাঁকি দিয়ে দুরূহ কোণ থেকে তাকুমা আসানো শটটি নিতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে দোহার খলিফা স্টেডিয়ামের জাপানি দর্শকেরা। জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঘাসের ওপর শুয়ে ততক্ষণে দেখতে লাগলেন বিশ্বকাপে নিজেদের দুঃস্বপ্নের শুরু! যে জাপনি ফরোয়ার্ড চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হৃদয় ভেঙেছেন সেই আসানো ৮ বছর আগে খেলে গেছেন বাংলাদেশে।

২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল জাপান অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে। ২০১৬ রিও অলিম্পিকের প্রস্তুতি হিসেবে তখন বিভিন্ন দেশে প্রীতি ম্যাচ খেলছিল জাপানের দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ দিনের সফরে সেবার থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশে আসে জাপানের যুবারা।

জাপানি যুব দলের শাসন সেদিন মাঠে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণ, মামুনুল ইসলাম, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসরা। ছোট ছোট পাস, টেকনিক আর স্কিলের ঝলক দেখিয়েছিলেন আসানোরা। বাংলাদেশ জাতীয় দল সেদিন পাত্তাই পায়নি জাপানের অনূর্ধ্ব-২১ দলটির কাছে। ১৫ মিনিটের জাপানি সুনামিতে উড়ে যায় বাংলাদেশ। মামুনুলদের জালে সেদিন ৩ গোল দেয় জাপান। এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে প্রথম ও তৃতীয় দুটি গোল করেন আসানো। নজরকাড়া সেই গোল যেন কাল আবারও করলেন এই জাপানি ফরোয়ার্ড। আসানো শুধু গোলই করেননি, এই জয়ে এশিয়ার ফুটবলের নতুন সূর্যোদয়ও যেন দেখাতে শুরু করেছে জাপান।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সেদিন ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে জাপানি ফুটবলাররা একটি করে চাবির রিং উপহার দেন বাংলাদেশের ফুটবলারদের। আসানোর গোলের পর ঢাকায় বসে সেই পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু বর্মণের, ‘আসানো গোল দিতেই আমার ওই দিনের ম্যাচের কথা মনে পড়ল। ওরা সেদিন খুবই ভালো খেলেছিল। আমরাও দু–তিনটি সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু গোল করতে পারিনি। জাতীয় সংগীত গাওয়া শেষে হাত মেলানোর সময় ওরা আমাদের একটা চাবির রিং দিয়েছিল। আমার কাছে সেই চাবির রিংটি এখনো আছে।’

তখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ ছিলেন সাইফুল বারী। অধিনায়ক হিসেবে খেলেন মামনুল ইসলাম। জাপান ২–১ গোলে জার্মানিকে হারিয়ে দেওয়ায় মোটেও অবাক হননি বাংলাদেশের মিডফিল্ডার। সঠিক পরিকল্পনা করলে একটা দল যে কোথায় পৌঁছে যেতে পারে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ তো দেখিয়েই দিয়েছে জাপানিরা। মামনুল বলছিলেন, ‘ওরা একটা লক্ষ্য নিয়ে খেলে আজ এখানে। বিশ্বের যেকোনো দল লিগে বা দেশের হয়ে যখন খেলবে তাদের অবশ্যই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। ঘরোয়া ফুটবল বা জাতীয় দল, আমাদের কোথাও সেই পরিকল্পনার ছাপ নেই। ওরা যখন এসেছে তখন আমরা খেলেছি জাতীয় দলের হয়ে। আর ওরা অলিম্পিকের দলটা নিয়ে এসেছিল। আজ থেকে ৮ বছর আগে ওরা যে লক্ষ্য নিয়ে খেলতে শুরু করেছিল বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারিয়ে সেই সফলতার একটা প্রমাণ দিয়েছে জাপান।’

আসানোর দেওয়া গোল যেন জাপানের নির্দিষ্ট গন্তব্যে এগিয়ে যাওয়ারই একটা ধাপ। অন্তত মামুনুল সেটাই মনে করেন, ‘ওই দলের লক্ষ্যই ছিল বিশ্বকাপ। ওরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে একটা অর্জনের জায়গায় পৌঁছে গেছে। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারানো কিন্তু সহজ কথা নয়, অথচ ওরা সেটা করে দেখিয়েছে।’

যেখানে সাফে বাংলাদেশ সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০৩ সালে, সেখানে বিশ্বকাপ তো দূরের বাতিঘর। বিশ্বকাপের সময় তাই তো শুধু ভিনদেশিদের পতাকায় ছেয়ে যায় বাংলাদেশের আকাশ। বাস্তবতা মেনে মামুনুল বলছিলেন, ‘ওদের মতো আমাদের না আছে সুযোগ–সুবিধা, না আছে অবকাঠামো। আর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা বাদই দিলাম। ওদের ঘরোয়া ফুটবল লিগের অবস্থানটাও আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত। এশিয়ান কাপ তো দূরের কথা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপটাই এখনো আমাদের কাছে বিশ্বকাপ।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat