×
  • প্রকাশিত : ২০২২-১১-২০
  • ২৫ বার পঠিত
সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট অটোমেশন কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়েছে।

এক বছর আগে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানটি এনবিআরের আইটি বিশেষজ্ঞদের সফটওয়্যার (আইভাস) বুঝিয়ে দেয়নি।

সফটওয়্যার আপগ্রেড, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি। গত এক বছরে আইভাস আইটি ইউনিটের কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৩ সালে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প শুরু হয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষ হয়। এর আওতায় এনবিআর এফপিটি সিস্টেমের কাছ থেকে ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভ্যাট ব্যবস্থা অটোমেশনের জন্য আইভাস নামের সফটওয়্যার কেনে। এফপিটি ভিয়েতনামের আইটি প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে আইভাস সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পায় এনবিআরের সংশ্লিষ্ট আইটি ইউনিট। গত এক বছরে আইভাস সিস্টেম সচল রাখতে গিয়ে আইটি ইউনিটের ত্রাহি দশা। কারণ, জটিল সফটওয়্যারটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বুঝিয়ে দেয়নি এফপিটি সিস্টেম।

শুধু ভ্যাট অটোমেশন নয়, এফপিটির উদাসীনতায় এনবিআর-এর আয়কর বিভাগের অটোমেশন কার্যক্রমও পূর্ণতা পায়নি। গত এক দশকে আয়কর বিভাগের অটোমেশনের ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটির কাজ পায় ভিয়েতনামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৪ সালে অনলাইন ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ফাইলিং ও ইনকাম ট্যাক্স উইং অটোমেশনের জন্য এফপিটিকে ইন্টিগ্রেটেড ট্যাক্স অ্যাডমিনিট্রেশন সিস্টেম তৈরির কাজ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তি নবায়ন না করায় ২০১৯ সালের শেষে এটি বন্ধ হয়ে যায়।

২০১১ সালে স্ট্রেংদেনিং গভর্নেন্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (এসজিএমপি) বাস্তবায়নের কাজ পায় সংস্থাটি। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শেষ হলেও তারা সম্পূর্ণ সিস্টেম এনবিআরকে বুঝিয়ে দেয়নি। অথচ সিস্টেম পূর্ণাঙ্গ হস্তান্তরের আগেই সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়। খোদ সরকারের প্রকল্প তদারকি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এবার এনবিআরের আইভাস আইটি ইউনিটের ৬ সদস্যের স্বাক্ষরিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইভাস সিস্টেমের হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যারের ক্রেডিনশিয়াল যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এনবিআরের আইটি কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ডেটাবেজ, নেটওয়ার্ক ও সিকিউরিটির ওপর হাতেকলমে প্রশিক্ষণের জন্য কয়েকবার চিঠি দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

উপরন্তু ভিয়েতনামের বিশেষজ্ঞরা দেশে অবস্থান না করায় টেকনোলজি স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, রিটার্ন, রিফান্ড, ই-পেমেন্টের বিষয়ে কারিগরি সমস্যা উদ্ভূত হলে ই-মেইলে ভিয়েতনামের বিশেষজ্ঞদের জানানো হয়। তারা সেখান থেকে সমাধান করে থাকে। ফলে একই ধরনের সমস্যা পুনরায় উদ্ভব হলে দেশে বসে তা সমাধান করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, সিস্টেম আপডেট বা মডিফিকেশন বা কনফিগারেশন করতে হলে এফপিটির পূর্বানুমোদন নিতে হয়।

এতে আরও বলা হয়, আইভাস সিস্টেমটি জটিল সফটওয়্যার। যার প্রতিটি মডিউল সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা না থাকলে কাজ করা সিস্টেমের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এই সিস্টেমটি পুরোপুরি বুঝে নিয়ে পরবর্তী ডেভেলপমেন্ট বা মডিফিকেশন বা আপপ্রেডেশনের কাজ করতে গেলে এসএপি মডিউল বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন এক্সপার্ট টিম থাকা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইটি ইউনিটে ২০-২৫ জনের এক্সপার্ট টিম গঠনের সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আইভাস সিস্টেমটি সড়ক-ব্রিজ বা অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের মতো নয়। সারা বছরই এই সিস্টেম আপগ্রেডেশনে কাজ করতে হয়। যেমন বাজেটে ভ্যাটে যেসব পরিবর্তন আসে, সে অনুযায়ী সফটওয়্যার পুনর্গঠন করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে আইটি ইউনিটে যে জনবল আছে, তা দিয়ে এ কাজ করতে অনেক সময় লাগে। আর এফপিটির বিশেষজ্ঞরা দেশে অবস্থান না করায় কাজগুলো জটিল হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় একটি কল সেন্টার (১৬৫৫৫) চালু করা হয়েছিল। এই কল সেন্টার থেকে ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে ভ্যাটের পরামর্শ দেওয়া হতো। কিন্তু লোকবলের অভাবে কল সেন্টারটি চালানো যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে আইভাস সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল, ব্যবসা নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ (বিআইএন), রিফান্ড গ্রহণ, বিচারাদেশ, ই-পেমেন্টের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধ করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat