×
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৯-২২
  • ৭ বার পঠিত
বিশ্বব্যাপী স্থাপত্যের অন্যতম বৃহৎ পুরস্কার আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার (একেএএ) ২০২২-এর ৬টি বিজয়ীর মধ্যে দুটি বাংলাদেশের। খন্দকার হাসিবুল কবির এবং সুহেলি ফারজানার ঝিনাইদহের আর্বান রিভার স্পেসেস প্রকল্প এবং রিজভি হাসান, খাজা ফাতমি ও সাদ বেন মোস্তফার ‘রোহিঙ্গা রিফিউজি রেস্পন্স প্রোগ্রামের’ কমিউনিটি স্পেন্সের নকশা ওই পুরস্কার জিতেছে। বাংলাদেশের দুটি প্রকল্প ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ইরান, লেবানন ও সেনেগালের চারটি প্রকল্প আগা খান পুরস্কারের ১০ লাখ ডলার ভাগ করে নেবে। বাংলাদেশে আগা খান ডেভেলাপমেন্ট নেটওয়ার্কের (একেডিএন) কূটনৈতিক দপ্তর আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়।

ঝিনাইদহে ‘আরবান রিভার স্পেসেস’ : নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ ঝিনাইদহের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণে নবগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিষ্কার করে নদীতে অভিগম্যতা বাড়ানোর এই প্রকল্প আপাতদৃষ্টিতে সহজ ছিল। কিন্তু এর মাধ্যমেই স্থানীয় নির্মাণ কৌশল ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে সুবিবেচনাপূর্ণ ও সাদামাটা প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়। এটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই প্রকল্পের আওতায় নদী তীরবর্তী পরিত্যক্ত ময়লার ভাগাড়কে একটি আকর্ষণীয় বহুমুখী স্থানে পরিণত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঝিনাইদহের মানুষের কাছে এটি ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদী ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য বিপর্যয় যেমন রোধ করা গেছে, তেমনি নদীর স্বাভাবিক বাস্তুসংস্থানেরও উন্নতি হয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কমিউনিটি স্পেস : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিভিন্ন জরুরি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দক্ষতা ও সংবেদনশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে রোহিঙ্গা রিফিউজি রেসপন্স প্রোগ্রামের ছয়টি অস্থায়ী কমিউনিটি স্পেস। বাংলাদেশের কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠির মাঝে আশ্রয় নেওয়া বিপুল পরিমাণ বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন তো বটেই, বিশেষ করে, নারী ও মেয়ে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিশ্চিত করা হচ্ছে। যথাযথ কর্মপরিকল্পনা, জোরালো অংশীদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পেসগুলোর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নকশা শরণার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং স্থানের চাহিদার নিরিখে করা হয়েছে।

এর আগেও পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের প্রকল্প : একেডিএনের কূটনৈতিক দপ্তর জানায়, এর আগেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রকল্প এই কাঙ্ক্ষিত আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছে। ২০১৯ সালে দক্ষিণ কানারচর-এ আর্কেডিয়া এডুকেশান প্রকল্প (স্থপতি সাইফ উল হক-এর নকশা) এই পুরস্কার জিতে। ওই বছর স্থপতি জুবায়ের হাসানের করা গাজিপুরে ‘অ্যাম্বার লুম ডেনিম শেডের’ নকশাটি সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল।

২০১৬ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে ছিল স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের নকশা করা ঢাকার বাইত উর রউফ মসজিদ এবং কাশেফ চৌধুরীর করা গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার। ১৯৮৯ সালে এই পুরস্কার জিতেছিল গ্রামীন ব্যাংক হাউসিং প্রোগ্রাম এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং আর ২০০৭-এ জিতেছিল রুদ্রপুরের একটি স্কুল। এই পাঁচটি ছাড়াও ২০১০ সালে আগা খান পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশের আরো দু’টি প্রকল্প।

একেডিএনের কূটনৈতিক দপ্তর জানায়, আগা খান ১৯৭৭ সালে এই স্থাপত্য পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে এমন নির্মাণশৈলি চিহ্নিত করে উৎসাহ দেওয়া হয় যাতে মুসলিম অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। এই পুরস্কারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি স্থাপনা মানুষের আর্থসামাজিক চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক জীবনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তাও গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।

এ বছর আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারের ৪৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ বিচারক দল ৪৬৩টি প্রকল্পের মধ্য থেকে ২০টি প্রকল্পকে ১৫তম ‘অ্যাওয়ার্ড সাইকেল’ (২০২০-২০২২) এর জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করেন। এরপর একটি বিশেষজ্ঞ দল এই তালিকায় থাকা প্রতিটি প্রকল্প সরেজমিন পর্যবেক্ষণের পর জুরি বোর্ড সেগুলোর মধ্য থেকে ছয়টি প্রকল্পকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেন। এই বিজয়ী প্রকল্পগুলোর সম্মানার্থে ও ত্রিবার্ষিকীর সমাপনী উপলক্ষ্যে পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় এমনসব স্থানে, যেগুলো স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এবং সাংস্কৃতিকভাবে মুসলিম দুনিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর ওমানের রাজধানী মাসকাটে আগা খান সঙ্গীত পুরস্কারের সঙ্গে একযোগে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।

১৯৮০ সালে লাহোরের শালিমার গার্ডেনস, ১৯৮৩ সালে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদ, ১৯৯৮ সালে গ্রানাডার আলহামব্রা এবং ২০০৪ সালে দিল্লিতে বাদশাহ হুমায়ূনের সমাধির মতো মুসলিম স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শনগুলোতে পূর্বের আসরগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ২০টি প্রকল্প মনোনয়নের জন্য গঠিত নয়-সদস্যের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ বিচারক দলে ছিলেন ঢাকাস্থ বেঙ্গল ইন্সটিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক কাজী খালিদ আশরাফ।

আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আগা খান। এ ছাড়া স্টিয়ারিং কমিটিতে রয়েছেন ঢাকাস্থ মেরিনা তাবাসসুম আর্কিটেক্টসের অধ্যক্ষ মেরিনা তাবাসসুম।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat